ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন মনে হলে ডিসি বদলাবে, সরকার প্রস্তুত: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোন পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদলের প্রয়োজন পড়লে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এ কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যে কোনো সিদ্ধান্ত বা মতামত সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার ইসির প্রত্যেকটি চাওয়াকে সম্মানously গুরুত্ব দেবে। यदि নির্বাচন কমিশন মনে করে যে, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোনো পরিবর্তন অপরিহার্য, তাহলে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সেই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিষয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনায় তাঁদের বদলের দাবি তুলেছে। এক মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিপরীতে এই বদল সম্ভব কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট করেন, সরকার নিজ থেকেএখনো কোনো রদবদলের কথা বলছে না। তবে যদি নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে মনে করে যে, বদল জরুরি, তখনই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিবর্তনের আগে কমিশন তাই বিষয়টির যৌক্তিকতা নিশ্চিত করবে।

মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ড. শেখ আব্দুর রশীদ উল্লেখ করেন, তিনি এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিক বিষয় দেখেননি। তাঁর মতে, মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং এর ফলে সব পক্ষ সবসময় সন্তুষ্ট না হতে পারে, যা স্বাভাবিক। প্রতিটি প্রার্থীর পরিস্থিতি আলাদা থাকায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকাও স্বাভাবিক। তবে কেউ যদি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে শত শত প্রার্থী এই সুযোগ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

আলোকিত অভিযোগ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বর্তমানে তথ্যের স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ততার যুগে যে কেউ যেকোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন। তবে এ জন্য যে, প্রশাসন বিশেষ কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করছে—এমন কোনো শক্তিশালী প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন, যদি সত্যিই কোনো অসদুপায় বা অস্বচ্ছতা চোখে পড়ে, তা মোকাবিলা হবে প্রমাণের ভিত্তিতে। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার এর সব বিভাগই এখন নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।