ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছেন, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। আইআরজিসি বুধবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে মোট ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসি এক জরুরি বিবৃতিতে বলেছে, হামলায় বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর বা ফিফথ ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিকে সরাসরি নিশানায় রাখা হয়েছিল। তেহরান এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আকাশঘাতের জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এটিকে ‘‘প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া’’ বলা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমিতে বলা হচ্ছে, বুধবার ভোরে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের হরমোজগান ও মাহশাহর অঞ্চলের কয়েকটি উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এরপরই তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর দাবি করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের হামলার সফলতার কথা জানিয়েছিল; আইআরজিসি তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘চূড়ান্ত প্ররোচনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আইআরজিসি আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের সময় এই আক্রমণ চালিয়ে ঐতিহাসিক শোক মিছিলে জনগণের মনোযোগ বিচ্যুত করার চেষ্টা করেছে। তেহরান এমন আচরণকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা তীব্র থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি শিথিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন। সংঘাত সম্পর্কে ন্যূনতম স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সূত্র থেকে তথ্য যাচাই না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিলরূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।








