আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য এবং ‘‘ডায়নামিক প্রাইসিং’’ পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে। অনেক ভক্ত একে বিলাসিতা এবং অপরিহার্যতা হারানো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, কারণ প্রচলিত দামে টিকিট পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই সমালোচনাকে ততটা মনে করেই নিচ্ছেন না। তিনি ফ্রেঞ্চ দৈনিক লে’কিপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, টিকিট থেকে অর্জিত আয়ই ফিফাকে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত—অর্থাৎ প্রায় ৪৭ মাস—তাদের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাঁর ভাষায়, ৩৯ দিনব্যাপী এই মেগা টুর্নামেন্টই ফিফার প্রধান আয়ের উৎস, তাই আয় তুলতে তাদের উচ্চমূল্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
ফিফার নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী গ্যালারির সামনের সারিতে বসে খেলার টিকিটের দাম প্রায় ৪,১০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু টিকিটের মূল্যের বাইরেও ভ্রমণ-ববস্থা, স্টেডিয়ামের পার্কিং এবং স্থানীয় পরিবহনের বাড়তি খরচ অনেকের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার্কিং ফি টিকিটের মূল্যের তুলনায় বেশি ঘোষণা করা হয়েছে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে। বড় শহরগুলোতে গণপরিবহনের ভাড়াও বাড়ার খবর ভক্তদের আরও দিশাহীন করে তুলেছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ইনফান্তিনোর বক্তব্যে অনুশোচনার আভা প্রকাশ পাচ্ছে না; তিনি বিষয়টিকে পূর্ণতই একটি গাণিতিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করছেন। অনেকে মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে ফিফা সাধারণ সমর্থকদের আবেগ ও প্রবেশাধিকারকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাণিজ্যিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আরও রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তীব্রতা—যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে—যা এই টুর্নামেন্টকে ইতোমধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর আবহে শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তাই ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের এই অর্থনৈতিক ও নীতি-নির্বাচনী বিতর্ক বিশ্বকাপের উৎসাহকে খানিকটা ম্লান করে দিচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার তিন দেশে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) আয়োজিত হতে যাওয়া ২৩তম বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর হওয়ার পথে। ফিফা তাদের আর্থিক মডেল এবং টিকিটনীতি পরিবর্তনে অনড় থাকায় ভক্তদের পকেটে যে বিশাল অঙ্ক খসে পড়বে, তা এখন প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। ইনফান্তিনোর ‘‘এক মাসের আয়ে ৪৭ মাস চলার’’ যুক্তি আধুনিক ক্রীড়া বাণিজ্যের কঠোর বাস্তবতাকে জনসমক্ষে উত্থাপন করেছে—কিন্তু সেটি কি ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, তা সময়ই বলবে।









