ঢাকা | শনিবার | ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এবারও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশের একটি জরুরি পর্যবেক্ষণাধীন জাহাজ, এমভি বাংলার জয়যাত্রা, হরমুজ প্রণালি পেরোতে চেয়ে পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল। শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এই জাহাজটি প্রথমে অনুমতিপ্রাপ্ত বলে ধারণা করা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইরানের বাহিনী তাদের হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। নির্দেশনা পেয়ে জাহাজটি আবারও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য কাপুরুষের মতো এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রতিশ্রুতি থাকার পরও অনুমতি না পাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি যেমন হয়েছে, তেমনি সাহসিকতা ও সমুদ্র নিরাপত্তায় সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, তারা শুক্রবার রাতে নবনির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে আগ্রহের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির দিকে এগোচ্ছিলেন, সরকার মহাশিক্ষা শুনে। তবে দুঃখজনকভাবে ইরানের বাহিনী তাদের অনুমতি দেয়নি। এতে তারা দ্রুতই ফিরে যান পারস্য উপসাগরেই, যেখানে তারা আগের মতো নিরাপদে অবস্থান করছেন।

প্রথমে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে, এবং রাত তিনটার মধ্যে পেরোতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হয়। তবে বাস্তবে দেখা যায়, রাতের মধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সমস্ত জাহাজ আবারো পারস্য উপসাগরে ফিরে যায়। এই পরিস্থিতিতে, শতাধিক জাহাজ হরমুজের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত সবাই ফিরে আসে নিরাপদ স্থানে।

বাংলার জয়যাত্রা এই অঞ্চলেই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অবস্থান করছে, তখন থেকে এটি বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত। ১১ মার্চ বিএসসি সিদ্ধান্ত নেয় এই জাহাজকে ফিরিয়ে আনবে, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দরে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে গিয়ে থমকে যায়। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় শীঘ্রই অন্য পরিবহনের জন্য প্রস্তুত হয়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যে, হরমুজ পার হওয়ার তিন দফা চেষ্টায়ই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় বাংলার জয়যাত্রা, যা দেশের সমুদ্র ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।