ঢাকা | রবিবার | ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কোস্ট গার্ডের অভিযানে সুন্দরবনে ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রধানসহ দুই ডাকাত আটক, একজন নিহত

সুন্দরবনের গভীরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে; ঘটনাস্থলে এক সদস্য মারা গেছেন।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বনদস্যু নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চালাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে ‘দুলাভাই বাহিনী’ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দিলে তা উপেক্ষা করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়; এক পর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে এবং অপরটি ডুবে যায়। কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ তখন ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ব্যবহার করেছেন।

গোলাগুলির পর তল্লাশি চালিয়ে ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) ও ডাকাত শওকত সরদার (৫৫)কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযানে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য সদস্যদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামের আরেকজনকে আটক করা হয়। তাকে পরে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।

অভিযান শেষে সুন্দরবনের আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং নিহতের মরদেহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।