বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, বাজেটে খুচরা ও সেবামূলক ১৬টি খাত সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার প্রস্তাব থাকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বললেন, মুদি দোকান, প্রসাধন সামগ্রীর দোকানসহ ছোটখাটো বিক্রেতারা ভোক্তা থেকে ভ্যাট আদায় এবং তা প্রশাসনিকভাবে জমা দেওয়ার উপযুক্ত প্রস্তুতি রাখে না। নগদ লেনদেন বেশি হওয়ায় এবং ডিজিটাল সিস্টেম না থাকায় ক্ষুদ্রদের ওপর কর আরোপ করলে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন, তাদের আচরণগত ও প্রশাসনিক চাপ বেড়ে যাবে।
দোকান মালিকদের উপস্থাপিত তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে লার্জ ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিট (এলটিইউ)-র মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশ আয় হয়। আরও বড় শ্রেণি হিসেবে উল্লিখিত ৫০০টি প্রতিষ্ঠানের অবদান মিলিয়ে মোট ভ্যাটের প্রায় ৯৮ শতাংশ আসে, যখন লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর অবদান মাত্র প্রায় ২ শতাংশ। এই তালিকাভুক্ত বাস্তবতা দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রাজস্ব বাড়াতে প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত বড় করদাতাদের ওপর।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘খুচরা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে রাজস্ব বাড়ানো যেতে পারে না। যাদের আয় কম, তাদের ভ্যাট আদায়-জমা করাটা অনুপযুক্ত ও কঠিন।’’ তিনি দ্রুত অটোমেশন—যেমন পস মেশিন, ডিজিটাল ইনভয়েসিং ও ই-ট্রানজেকশন সিস্টেম—চলমান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন, যাতে বাস্তব ভ্যাটদাতাদের সংখ্যা বাড়ে এবং করচার্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসে।
হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, এনবিআরকে খুচরা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে উৎসে ও বড় খাত থেকে কর আদায়ের দিকে এগোতে হবে। তিনি বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট ফাঁকি ও করহীন আয় শনাক্ত করে সেখান থেকেই রাজস্ব আদায় বাড়ানোই যুক্তিযুক্ত পথ।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানান—বাজেট নীতিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিশেষ প্রণোদনা বা ছাড় রেখে বাস্তবসম্মত রূপায়ণ নিশ্চিত করা হোক, এবং স্বল্পমেয়াদে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সক্ষমতা বাড়াতে অটোমেশন ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।








