ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গাজায় মার্কিন সহযোগিতায় ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর প্রকোপ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মার্কিন সহযোগিতায় পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে বলে শুক্রবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, এ সংকটের পেছনে ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেরুজালেম থেকে এএফপি জানিয়েছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংকট ও সংঘাত বিষয়ক সহপরিচালক বেলকিস উইলে বলেছেন, গাজায় মার্কিন সমর্থিত ইসরায়েলি বাহিনী ও বেসরকারি ঠিকাদাররা একটি ত্রুটিপূর্ণ, সামরিক নিয়ন্ত্রিত ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত রক্তপাতের একটি ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৫ মাস ধরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী এবং হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মুখোমুখি এবং বেসামরিক মানুষরা অনাহারে মৃত্যুবরণ করছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামে একটি বেসরকারি ত্রাণ উদ্যোগকে সমর্থন করেছে, যা গাজার অভ্যন্তরে চারটি স্থানে কাজ করছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেন মার্কিন সামরিক ঠিকাদার ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

জিএইচএফ তাদের কার্যক্রম শুরু করে মে মাসের শেষ দিকে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। তখন ইসরাইল অধিকাংশ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অবরোধ কিছুটা শিথিল করেছিল।

তবুও, গাজার অভ্যন্তরে এএফপি প্রতিবেদক, সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা বারবার এমন ঘটনা তুলে এনেছেন যেখানে সহায়তার আশায় জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া অসহায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনারা গুলি চালিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৮৫৯ জন ফিলিস্তিনি জিএইচএফ-এর ত্রাণকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে খাদ্য সংগ্রহের সময় হতাহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এইচআরডব্লিউ-এর বেলকিস উইলে বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখছে না, বরং প্রায় প্রতিদিনই তাদের পরিবারের জন্য খাদ্য সংগ্রহের সময় গুলি করে হত্যা করছে।’

এএফপির প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, যদিও পূর্বে তারা দাবি করেছে যে তারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে না এবং দুর্ঘটনাজনিত হতাহত এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

একদিকে যখন এই কঠিন ক্ষুধা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ গাজায় জিএইচএফ-এর অন্তত একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছেন।