ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানিকে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিদ্ধান্তটিতে বলা হয়েছে, এই কোম্পানিগুলোকে নিয়মিত বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা এবং তাদের পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিরাপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। তালিকাটি ডিএসইর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গতকাল বুধবার প্রকাশ করা হয়।
ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকাভুক্তির পেছনে শক্ত আর্থিক সংকট, দীর্ঘমেয়াদী কর্পোরেট লোকসান, স্থায়ীভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকা, উচ্চ পরিমাণের খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল নগদ প্রবাহসহ নানা কারণ কাজ করেছে। নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনে যদি কোনো কোম্পানির আগামী ১২ মাস স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা দেখা যায়, তখন তাকে এই স্ট্যাটাস দেয়া হয়—এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আগে থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে: পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জুট স্পিনার্স, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, তাল্লু স্পিনিং মিলস এবং শ্যামপুর সুগার মিলস।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, নিরীক্ষকদের শঙ্কা প্রকাশ একটি উদ্বেগজনক সংকেত। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোম্পানি পরিচালনা ও উদ্যোক্তারা দ্রুত অবস্থান সংশোধন না করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সতর্কতা বাজারের স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বুঝতে সহায়ক হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম প্রথম সারির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ডিএসইর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে উপস্থাপন করা ডিএসইর দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিয়ে যে কোনো গুরুতর ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি লোকসান বা নিরীক্ষকের নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ থাকলে তা প্রকাশ করা বিনিয়োগকারীদের জন্য অপরিহার্য।
ডিএসই বলেছে, এই চিহ্নিতকরণ বাজারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে পারেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে ডিএসই ও বিএসইসি উভয়কেই দেখার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষকের মন্তব্য এবং পরিচালনার বিবৃতি ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।








