ঢাকা | শুক্রবার | ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন গোয়েন্দা: ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে সক্ষম

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরান চাইলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনটি সূত্র সিএনএনকে এ মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে, যা অনুসারে তেহরানের হাতে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি জোগানে ভয়াবহ প্রভাব ফেলার একটি শক্তিশালী কৌশল চলে এসেছে।

প্রাথমিক পারমাণবিক আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি শীঘ্রই, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা থাকলেও, কাগজে সইয়ের আগেই ইরান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে।

এক সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, ‘‘আমরা কার্যত এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে তুলে দিয়েছি—এটি এমন একটি হাতিয়ার যা পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ প্রভাব রাখতে পারে।’’ গোয়েন্দারা বলছেন যুদ্ধভিত্তিক কৌশলগুলো তেহরানের ভাবনাচিন্তায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত চালিয়ে ইরান তাদের ‘অসাম্য ক্ষমতা’ প্রমাণ করেছে। যুদ্ধকালীন এই কৌশলগুলোতে তারা অনায়াসে সফলতা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলোকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার অপশন হিসেবে ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে, খসড়া চুক্তি কার্যকর রাখতে ইরানকে হরমুজ খুলে রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া-নেওয়ার ব্যাপক আবশ্যকতা পড়েছে। একটি উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ খোলা না রাখলে ও চুক্তির অন্যান্য শর্ত মানা না হলে ইরান খসড়া চুক্তির কোন সুবিধা পাবে না। মার্কিন প্রশাসন বলছে, ইরান জাহাজ চলাচল যতটা স্বাভাবিক করবে, ততটাই যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ শিথিল করবে।

গোয়েন্দারা আরও বলেছেন, চলতি সংঘাতের মধ্যেই ইরান সমুদ্রে মাইন敷, রকেট, ড্রোন, মিসাইল লঞ্চার ও দ্রুতগামী ছোট নৌকো ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের সামরিক শিল্প খুব দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে এবং নতুন ড্রোন তৈরিও শুরু করেছে, যা তাদের সামর্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

চিন্তা করা হচ্ছে—হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার পর আন্তর্জাতিক মিত্রবাহিনী কীভাবে সেখানে টহল দেবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এ ব্যাপারটি কিভাবে কাজ করবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস লাগতে পারে।

একাধিক সূত্র বলেছে, ইরান হরমুজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি অন্য নৌপথও কাজে লাগাতে পারে। যদি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনাগুলো সফল না হয়, তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিদের মাধ্যমে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাধা দিতে পারে—যা লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে বিশ্ববাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রুট।

মার্কিন গোয়েন্দারা এখন নিয়মিতভাবে খতিয়ে দেখছে কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে ইরান আবার এই কৌশল ব্যবহার করতে পারে। অনেক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ করতে একটি এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে প্রণালী বন্ধ করার সুযোগই না থাকে।

তবে, ভবিষ্যতে ইরানের এই ধরনের পদক্ষেপকে দৈর্ঘ্যভিত্তিকভাবে কীভাবে আটকানো হবে—বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে কূটনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি স্বল্প করে—এ ব্যাপারে পরিষ্কার ও স্থায়ী কৌশল এখনও স্পষ্ট নয়।