ঢাকা | মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

তামিল সিনেমার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর বড় সিদ্ধান্ত

অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই তামিল চলচ্চিত্র জগত তাঁর ওপর বিশেষ প্রত্যাশা রাখে—এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকার সম্প্রতি রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্প সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের সব প্রেক্ষাগৃহে কোনো নতুন সিনেমা মুক্তির প্রথম সাত দিনে প্রতিদিন পাঁচটি করে শো দেখানোর অনুমতি দেওয়া হবে। আগে দৈনিক সর্বোচ্চ চারটি শোর বিধি ছিল এবং অতিরিক্ত শো চালানোর জন্য জেলা কালেক্টর বা পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হতো। বর্তমান নির্দেশনায় ঐ জটিলতা দূর করে সাধারণ দিনেও শোর সংখ্যা বাড়ানোর সুবিধা এনে দেওয়া হয়েছে।

শিল্পপালন ও প্রদর্শন সংক্রান্ত এই পরিবর্তনটি বিশেষত বড় বাজেটের ছবির ব্যবসায়িক সফলতা تضمিনে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিলিজের উদ্বোধনী সপ্তাহে অতিরিক্ত শো হলে টিকেট বিক্রয় দ্রুত বাড়বে এবং প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও পরিবেশকদের আয়বৃদ্ধি হবে—বিশেষত ছোট ও মাঝারি হলে এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনটি ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সংগঠন ও চলচ্চিত্রকারদের অনুরোধের প্রতিফলন। তারা বলেছিলেন, আধুনিক বাজারে বড় বিনিয়োগ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য প্রদর্শনী সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। তাঁদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিদ্যমান প্রদর্শনী বিধি সংশোধনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন নির্দেশনায় প্রথম সাত দিনের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক ছুটি ও বিশেষ দিনগুলোতেও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই পাঁচটি শো চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

শোসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সরকার পাইরেসি প্রতিরোধেও কঠোর মনোভাব নিয়েছে। প্রযোজক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে পাইরেসি রোধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজেও পাইরেসির শিকার হয়েছেন—তাঁর অভিনীত সাম্প্রতিক ছবি ‘জন নায়াগন’ মুক্তির আগে অনলাইনে ফাঁস হয়েছিল—এমন বাস্তবতা পরিষ্কারভাবে এটিকে সরকারি অগ্রাধিকার করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে বলা হচ্ছে, খুব শিগগিরই আরও কড়াকড়ি আইন বা কার্যক্রম চালু করা হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে তামিল চলচ্চিত্র ও বিনোদন খাতকে প্রাণবন্ত ও আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দর্শক, পরিবেশক ও শিল্পী মহল সাধারণত এই সিদ্ধান্তকে উষ্ম স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে দীর্ঘমেয়াদে তামিল সংস্কৃতি ও সিনেমা শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।