ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য

বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, দীর্ঘ একস্তরীয় বন্ধের পর পুনরায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের শ্রমিকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পেতে পারেন। প্রায় দুই মাসের মধ্যে কর্মীদের পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই), প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও সক্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটির জন্য ধৈর্য্য ও অপেক্ষার অবসান ঘটছে। এর আগে, বিভিন্ন সময় নানা কারণে এই বাজার বন্ধ হয়ে ছিল। ২০০৮ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এই বাজার ছিল অপ্রাপ্য। তবে এখন নতুন সরকারের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি আবারও খুলে দেওয়ার পথে।

প্রথমে, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রথম শ্রমিক রপ্তানি শুরু হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকশ শ্রমিক পাঠানো হয়। দুই দেশ মধ্যে শ্রমিক অভিবাসনের চুক্তি স্বাক্ষর হয় ১৯৯২ সালে। তবে, ২০০৮ সালে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে এই বাজার বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে আবার চালু হলেও ২০১৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালে কিছু শ্রমিকের জন্য আবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পাঠানো, কিন্তু ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা প্রায় ৭ হাজার ৮৭৩ জন শ্রমিকের মধ্যে অনেকের জন্য ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তাদের দ্রুত মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কাজ চলছে। এছাড়াও, চলমান আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা খুব দ্রুতই কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র শ্রমবাজার খোলাটা যথেষ্ট নয়; অভিবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করতেই হবে। অন্যথায়, আবারো বিপদে পড়তে পারে শ্রমবাজার। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো জনশক্তি রপ্তানিতে পুনরায় ঝুকি সৃষ্টি হতে পারে। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা আরেকবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে, তবে সবার সচেতন অবস্থানে থাকাই উচিত।