মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব ছাড়াও তেলের বাজার ও মুদ্রার ওঠানামার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ার ফলে গড় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা নামতে পারে, বিশ্লেষকরা বলছেন মূল্যস্ফীতি আর আয়ের সাথে সামঞ্জস্যহীনতার চাপ দীর্ঘস্থায়ী রকমের হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় থাকা ৪৫ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী এড ডেলোস সান্তোসের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির দাম বাড়ায় চার সদস্যের পরিবারের বাজেট কষে দিতে হচ্ছে—এক কেজি মাংস কেনার অভ্যাস এখন আধা কেজি পর্যন্ত নামিয়েছে। এ ধরনের তৈরি-দৈনন্দিন সমন্বয় অনেক পরিবারই করছে।
ফিলিপাইন ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায় মুদ্রার অবমূল্যায়ন আমদানি খরচ বাড়িয়েছে এবং সেটাই সরাসরি ভোক্তার পকেটে পড়ছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বেনজির হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা নতুন মূল্যস্ফীতির ঢেউ তোলে।
খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ক্রেতারা দামি ব্র্যান্ড ছেড়ে কম দামের — এবং অনেক সময় মান তুলনায় খারাপ — পণ্যে ঝুঁকছেন। দুগ্ধজাত পণ্য, বেকারি আইটেম কিংবা অন্যান্য অলসীয় সামগ্রীর মতো অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা কমিয়ে দিচ্ছেন বহু পরিবার। ফলে ক্যান্টিন-থলি-রুটিনের দৈনন্দিন খরচকে ঘেঁষে শেয়ার করা হচ্ছে।
সংখ্যা খতিয়ে見るলে ফিলিপাইনে মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬.৮ শতাংশে, যেখানে এক বছর আগে তা ছিল মাত্র ১.৩ শতাংশ। ভিয়েতনামে মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশে উঠে এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইন্দোনেশিয়াতেও জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাবে ডিম, মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে।
উন্নত আয়ের দেশ সিঙ্গাপুরও এই চাপ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পায়নি। যদিও সেখানে অর্থনীতির কাঠামো ও মুদ্রা শক্তিশালী, সাধারণ মানুষ এবং পরিবারের ঋণের বোঝা বাড়ছে—সম্পদের তুলনায় দেনার বৃদ্ধিই দ্রুততর। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও মূল্যস্ফীতির গ্রাফ উপরের দিকে ওঠা দেখা গেছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন—যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা দূর না হয়, তা হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের ক্রয়ক্ষমতার ক্ষতি মোটা অঙ্কে পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠবে। সরকারের নীতিগত সমন্বয়, সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো ও ভোক্তা সমর্থন ব্যবস্থার ত্বরান্বিত করা না হলে নিন্ম আয়ের পরিবারের ঘুরে দাঁড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে।







