ঢাকা | রবিবার | ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মেসির আর্জেন্টিনা মোকাবিলায় কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ

গ্রুপ পরের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র হওয়ার পর মাঠেই কোনও খবরের অপেক্ষায় তাকিয়ে ছিল কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা—কারণ পাশে চলা একটি ফোনে চলমান আরেক ম্যাচের ফল তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দিত। উরুগুয়ে ও স্পেনের ম্যাচের ফল নিশ্চিত হতেই দল উল্লাসে ফেটে পড়ে। তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করেই ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে তারা, আর সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা। ভয়ে নয়, বরং এক বুক রোমাঞ্চ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা এখন বিশ্বকে চমকানোর জন্য প্রস্তুত।

গ্রুপ ভাগ দেখে স্পেন ও উরুগুয়েকে প্রচলিতভাবে নকআউটে যাওয়ার ফেভারিট মনে করা হচ্ছিল; কেউ কেউ সৌদি আরবকেও আশা দেখেছিলেন। তবুও কেপ ভার্দের নাম কেউ গাণিতিকভাবে অনুমান করেনি। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই এই ছোট্ট আফ্রিকান দেশটি ফুটবলে বড় নজর কাড়েছে—স্পেনকে ০-০ তে আটকে রেখে শুরু, তারপর উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলের উত্তেজনাপূর্ণ ড্র এবং শেষে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্র করে অপরাজিত থেকেই তারা নকআউট বারণ করে নিয়েছে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দের এই সাফল্য অনেককেই অবাক করেছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার এবং তাদের জাতীয় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ১৫ হাজার—এই পরিসংখ্যানগুলোই দেখায় তাদের অর্জন কতটা অনন্য। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো মঞ্চ পাকা করা কেপ ভার্দ এখন নকআউট পর্বে পৌঁছানো ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবেও নাম লেখাল। এর আগে ঘানা ও ইউক্রেন ২০০৬ সালে অভিষেকেই গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছিল; ২০২৬ সালে সেই কাতারে কেপ ভার্দও যুক্ত হলো।

ক্লাব ও দেশ উভয় পর্যায়ে দলের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তাদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ সেভের পর সৌদি আরবের সঙ্গে ম্যাচেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা করে দলের দুর্গ মজবুত রাখেন তিনি। তার আত্মবিশ্বাস আর পরিচালনা কেপ ভার্দকে বক্সে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল—একটি গুটিকয় সময় ও একাগ্রতার মিশেলে দলের ইতিহাস বদলে যায়।

তবে নকআউট রেকর্ড পেছনে রেখে যাওয়া আনন্দের সঙ্গে সামনে বড় চ্যালেঞ্জও থাকছে। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামিতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি ইন্টার মায়ামির অ্যাকশন কেন্দ্রে হওয়ায় মায়ামি এখন মেসির শহর হিসেবেই পরিচিত—কাঠিন্যে ভরা এই মঞ্চে মেসির জাদু থামানোর দায়িত্ব কেপ ভার্দের কাঁধে।

আর বিপরীতে, কেপ ভার্দের উত্থান রাতে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে টুর্নামেন্ট থেকে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে—দুই ড্র ও এক হারে মাত্র দুই পয়েন্টে তারা ছিটকে পড়েছে। একইভাবে এশিয়ার শক্তি সৌদি আরবকেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছে; ১৯৯৪ সালের পর থেকে টানা ষষ্ঠবার গ্রুপ থেকে বিদায় পেতে হলো তাদের। স্পেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে, আর তাদের প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ফুটবল বিশ্বের নজর এখন মায়ামির দিকে—যেখানে একটি ছোট্ট দল আর বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের লড়াই হবে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের অনুকরণে। কেপ ভার্দের খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকেরা স্বপ্ন দেখছেন; ইতিহাস গড়ার পথে তারা হাঁটছে আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে।