ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

রিকশা থেকে প্রাডো: ‘জুলাই চেতনা’ বিক্রি করে রাতারাতি ধনী হওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি সাংসদ আক্তারুজ্জামান জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় বলেছেন, কেউ কেউ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ চেতনাকে পুঁজি বানিয়ে রাতারাতি শোষণ করে নিজেকে উন্নত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় তিনি এই তীক্ষ্ণ বক্তব্য দেন।

সাংসদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি, আমি নিজেও করেছি। এখানে যারা আছেন, অনেকেই ওই সময়ে সক্রিয় ছিলেন—আমাদের সন্তানরাও করেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছে, যাঁরা জুলাই চেতনাকে বিক্রি করে ফেলেছেন। আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি।’’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘জুলাই বিপ্লব কোনো বেচা-কেনার পণ্য নয়। তবু কিছু ব্যক্তি এই চেতনাকে হাতিয়ার করে নিজেদের জীবনব্যবস্থা হুট করে বদলে ফেলেছেন।’’ সংসদে তিনি প্রশ্নও তোলেন—এরা আগে কী করে জীবন নির্বাহ করতেন এবং এখন কীভাবে এত বড় বৈভবশালী হয়ে উঠেছেন।

আক্তারুজ্জামান হুইম করে বলেন, ‘‘আমি অনুরোধ করব—উনারা আগে কিসে চড়তেন, এখন কিসে চড়েন? আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। কোন বাসায় থাকেন—মাঝে মাঝে লাইভ করলেই জনতা সেটি দেখে নেয়।’’ তিনি দাবি করেন, এসব আচরণ দেখিয়ে বোঝা যায় যে বিপ্লবের আবেগকে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাজেটের প্রসঙ্গও টেনে তিনি বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের দাম কমানো হয়েছে, আর কেবল মদ ও সিগারেটের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বিরোধীদল বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে আক্রমণ করলে সাংসদ রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘‘আমরা শুনেছি চানাচুর বাচ্চারা খায়, আবার বড়রাও খায়—কখন? অন্য কিছু খাওয়ার পরে নাকি চানাচুর খায়।’’

শেষে তিনি দাবি করেন যে সরকারের এই জনবান্ধব বাজেট দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছে এবং সার্বিকভাবে এটি জনগণের স্বার্থেই কার্যকর হবে।