ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু কাল

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ আগামীকাল থেকে শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলার সূচনা বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার ও প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ কাল অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটি গত ১০ জুলাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন অভিযুক্ত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের জন্য সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজ সাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে মামলার প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অন্য প্রসিকিউটরগণ উপস্থিত থেকে শুনানি পরিচালনা করবেন। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ও ব্যক্তিগত আইনজীবীরা শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন। গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এর পরেও আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় তাদের পক্ষে আইনজীবী দিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য করা হয় এবং ১০ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলাটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি ট্রাইব্যুনাল মামলা রয়েছে, যেগুলো গুম-খুন ও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনকালে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠে। এই মামলাগুলোর ন্যায়, গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে চলছে। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ এই ঐতিহাসিক মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।