ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৮ গোলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ব্রাজিলের টানা পঞ্চম কোপা আমেরিকা জয়

মেয়েদের কোপা আমেরিকা ফাইনালে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকের পরিণতি। নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিল হেরে যাওয়ার দিকে ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে সমতা ফিরে নিয়ে আসে তারা। অতিরিক্ত সময়ে গোলগোল খেলা চলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে লড়াই গড়ে ওঠে। সব চড়া উত্তেজনার মাঝেই বিজয়ী হয় ব্রাজিল, লাতিন আমেরিকার এই প্রতিযোগিতায় টানা পঞ্চবার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে তারা।

কোপা আমেরিকার দশ আসরের মধ্যে নয়বার ব্রাজিলের মেয়েরা বিজয়ী হয়েছে। ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারানো যদি না হত, তবে আজ তাদের পরিসংখ্যানে শূন্য নেই কোন আসর। অন্যদিকে কলম্বিয়ার ভাগ্য কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক। শেষ পাঁচ আসরে চারবার ফাইনালে উঠলেও প্রতিবারই ব্রাজিলের কাছে পরাজিত হয়েছে তারা।

যোগ করা সময়ে পঞ্চম মিনিটে ৩-২ গোলে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিলের দুর্দান্ত কিংবদন্তি মার্তা অবসর কাটিয়ে ফের মাঠে নামেন এবং দুর্দান্ত একটি গোলের মাধ্যমে সমতা ফেরান, যা ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছায়। ৩৯ বছর বয়সী মার্তা অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেও, ১১৫মিনিটে কলম্বিয়া আবার সমতা তোলে। ফলে ম্যাচটি শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে চলে যায়। যদিও মার্তা পেনাল্টি শুটআউটে গোল করতে ব্যর্থ হন, তবুও শেষ পর্যন্ত তার খেলার ভূমিকা অসামান্য থেকেই যায়।

ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে গত শনিবার রাতে গোল নিয়ে লড়াইতে এগিয়ে ছিলেন ব্রাজিলের দল, কিন্তু প্রথম গোলটি করে কলম্বিয়ার লিন্ডা কাইসেদো। ২৫ মিনিটে তার গোলে কলম্বিয়া এগিয়ে যায়। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাজিলের অ্যাঞ্জেলিনা পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরায়। দ্বিতীয়ার্ধে কলম্বিয়া আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে আবার এগিয়ে যেতে পারে, তবে ব্রাজিলের আমান্দা গুতিয়েরেস ৮০ মিনিটে সমতায় ফিরিয়ে দেন দলকে।

এরপর মাইরা রামিরেজ একবার আরও গোল করে কলম্বিয়াকে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে ফেলে দেন, কিন্তু যোগ করা সময়ে মার্তার অসাধারণ গোল কলম্বিয়াদের স্বপ্নকে বিঘ্নিত করে। অতিরিক্ত সময়ে আবারো গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার লেইসি সান্তোস সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়, যার ফলে ম্যাচের কর্তৃত্ব এসে পড়ে টাইব্রেকারে।

পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম পাঁচটি শটের মধ্যে প্রতিটি দল দুইটি করে শট মিস করলেও ষষ্ঠ রাউন্ডে ব্রাজিলের লাউনি গোল করে বিজয় নিশ্চিত করেন, যেখানে কলম্বিয়ার জোরেলিন কারাভালি গোল করতে ব্যর্থ হন। এই মুহূর্তেই ব্রাজিল দলের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে।

মার্তা, যিনি অবসর ভেঙে ফিরে এসেছিলেন, প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তার অভিজ্ঞতায় ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছিলাম যেন আমাকে এত কঠোর পরাজয় না দেখতে হয়। মাঠে নামেই সমতা আনার গোলের আশীর্বাদ পেলাম এবং এর পর আরও একটি গোল করতে পারলাম। যদিও আমরা এক ভুল করেছিলাম এবং তাঁরা সমতা ফেরালেন। টাইব্রেকারে আমার একটি সুযোগ ছিল শিরোপা নিশ্চিত করার, কিন্তু আমি সেটা মিস করলাম। তবে আমার পাশে ছিল অসাধারণ এই নারী খেলোয়াড়েরা। তারা আমাকে ভেঙে পড়তে দেনি। সবাই বিশ্বাস করেছিল আমরা পারব। লোরেনা পেনাল্টি সেভ করবেন। সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই শিরোপা দিয়েছেন, এটি আমার শেষ কোপা আমেরিকা ট্রফি।”

এই বিজয় ব্রাজিল মায়েদের জন্য একটি মাইলফলক এবং লাতিন আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।