ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রত্যেক নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হবে। তিনি বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “বাজেট ভালো হবে, আমরা সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”

অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা থাকা সত্ত্বেও সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “সব দিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হলেও আমরা এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছি এবং বাজেট প্রণয়নার সময় সাধারণ মানুষের কথা সর্বোপরি রেখেছি।” বাজেটের উদ্দেশ্য হবে অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছায় এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে অর্থনীতি ভঙ্গুর আকার ধারণ করেছে এবং পূর্বের ভুল নীতির ফলে দেশ ঋণনির্ভরতার পথে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে ঋণের ওপর নির্ভর কমিয়ে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ফিরতে পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আনার দরকার রয়েছে। “আমরা ক্রমান্বয়ে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করব,” তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী বললেন, সরকারি পরিচালন ব্যয় ধীরে ধীরে কমাতে হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নীতিনির্ধারণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে। তার ভাষ্য, এভাবে আগলে নিলে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে যাওয়ার যে স্বপ্ন, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

সংবাদকর্মীরা যখন গত দুই বছরের অবস্থা ও বিনিয়োগ বাড়ার নিশ্চয়তার বিষয়ে প্রশ্ন করেন — তখন তিনি বলেন, গত দুই বছরে (অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে) বিনিয়োগ খুবই কম ছিল; বর্তমানে নতুন সরকারের তিন মাস পার হয়েছে। বিনিয়োগ বাড়াতে এখনই কোনও নিশ্চিত আশ্বাস দেবেন কি— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন, কিন্তু পুনরায় জোর দেন যে ভবিষ্যতে অর্থনীতিকে বিনিয়োগভিত্তিক করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শুরুটা যদি সঠিকভাবে হয় এবং সময় দিলে তারা ধীরস্থিরভাবেই অর্থনীতি শক্তিশালী করার পথে এগোতে পারবে। তিনি বলেন, “একটু সময় দিতে হবে, শুরুটা ভালো হলে আমরা সামনে ভালোভাবে এগোতে পারব।”