বাইজিং, ১০ অক্টোবর — চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল বেলা চীনের সময় অনুযায়ী গ্রেট হল অফ দ্য পিপলসে এই বৈঠক হয়, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, এই বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশ ও চীন বর্তমানে বিদ্যমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করে তোলা। আলোচনা হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে, যাতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
তিন দিনব্যাপী এই সফরের এক দিন আগে, চীনের জাতীয় জনসংখ্যা কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া, সকালে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারেএর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীর যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পাররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এই চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দল বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন। এর আগে, তিনি ২১ জুন মালয়েশিয়া সফর শুরু করেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দাভোস সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য চীনের দালিয়ান শহরে যান। এরপর বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার, গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপহার ও উষ্ণ সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পান। এরপর, দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসেন এবং আলোচনা শেষে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই দিনই, বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি, চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ করেন।
সফরের সময়, প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ কনফারেন্সে বক্তব্য দেন। এটি যৌথভাবে আয়োজিত হয় চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর সহযোগিতায়। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং-এর সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।
বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করেন, যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে চান।
আজ বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
সূত্র: বাসস








