ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এআইইউবিকে হারিয়ে পিএমসিসি চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতল শান্ত-মারিয়াম

তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রযুক্তিভিত্তিক ভবিষ্যৎ এবং ই-স্পোর্টস সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘পাবজি মোবাইল ক্যাম্পাস ক্লাব (পিএমসিসি) ল্যান চ্যাম্পিয়নশিপ’। আন্তর্জাতিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্সের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সবচেয়ে বড় গেমিং ইভেন্ট হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তৈরির পাশাপাশি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সারা দেশের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬০০টিরও বেশি দল অংশগ্রহণ করেছিল। অনলাইন বাছাই পর্ব শেষে চূড়ান্ত রাউন্ডে প্রবেশের জন্য নির্বাচিত হয় শীর্ষ ১৬টি দল, যারা ল্যান ভিত্তিক ফাইনালে অংশ নেয়।

ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে বলিষ্ঠ কৌশল, মেধা এবং সাহসিকতায় নেটোপথিক লড়াই চলল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জমকালো এই ফাইনালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) কে পরাজিত করে ‘পিএক্স ইস্পোর্টস’ দল নামে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চ্যাম্পিয়ন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। দলটি একই সাথে ২০২৫ সালের ‘পিএমসিসি ক্যাম্পাস ক্লাব চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি ক্ল্যাশ চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জনে সফল হয়।

বিজয়ী দল এবং ফাইনালিস্ট দলের হাতে ট্রফি সহ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ইনফিনিক্সের স্মার্টফোন এবং প্রিমিয়াম গেমিং গিয়ার তুলে দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড এবং ইনফিনিক্স বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইনফিনিক্সের এক মুখপাত্র বলেন, “এ প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র একটি গেমিং টুর্নামেন্ট নয়, এটি তরুণদের আত্মপ্রকাশের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিটি ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছে দুর্দান্ত প্রতিভা যারা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মত ছাপ রেখেছে। পিএমসিসি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে গেমিং শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এটি হতে পারে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং ক্যারিয়ার গঠনের একটি মাধ্যম।”

পুরো আয়োজন জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গেমার, টেক ইনফ্লুয়েন্সার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। পিএমসিসি ল্যান চ্যাম্পিয়নশিপ যদি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয় হয়, তা হয়ে উঠেছে একদিনব্যাপী গেমিং সংস্কৃতির উৎসব। দেশের জনপ্রিয় টেক ইউটিউবার, গেমিং স্ট্রিমার এবং ইনফ্লুয়েন্সাররা উন্মাদনার মুহূর্তগুলো অনলাইনে হাজারো দর্শকের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন।

ইনফিনিক্সের এই উদ্যোগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গেমিংকে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার, কমিউনিটি গঠন এবং সৃষ্টিশীলতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত করিয়েছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে বাংলাদেশী তরুণদের পাশে থেকে ইনফিনিক্স দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।