ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জিলংয়ের ভিভা এনার্জি শোধনাগারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্বিগ্ন

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। মেলবোর্নের কাছাকাছি জিলংয়ের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি প্রধান তেল শোধনাগারে বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাতে এক কাপকর্ণকর বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে শোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে তা নেভাতে বহুক্ষণ যুদ্ধ করে উদ্ধারকারীরা। টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর—বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে—আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বড় স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া গেছে এবং কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি মেটায় এবং জাতীয়ভাবে মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে, ফলে এর ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে বলেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশের বিমান চলাচল ও জরুরি পরিবহন সচল রাখতে ডিজেল ও জেট ফুয়েল সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্ববাজারে আগে থেকেই চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহবাধার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার প্রভাব বড়ভাবে পড়তে পারে। শোধনাগারটি অচল হলে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকার জরুরি মজুদ ব্যবহার এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আপাতত শোধনাগার পুনর্সচল করতে কত দিন লাগবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি দেয়া হয়নি।