জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্বে বিস্তারিতভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা যেমন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি অংশগ্রহণ করেন।
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যার মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করার লক্ষ্যে মূল বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রে ধাক্কা, সামরিক স্বৈরাচার দমন, ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অবনতি, বর্তমান সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার নিন্দা এবং জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, দেশের মানুষের মানবাধিকার রক্ষায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদকে জাতীয় বীর ঘোষণা, তাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে সভাসদ ও জনসাধারণের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচনে আদর্শিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার গুরুত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং বৈধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনার সংকল্পের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।








