ঢাকা | শনিবার | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৪২ বছর পর নতুন রূপে ফিরছে সুপারগার্ল

দীর্ঘ ৪২ বছর পর ডিসি ইউনিভার্সের অন্যতম জনপ্রিয় নারী সুপারহিরো সুপারগার্ল বড় পর্দায় নতুন আঙ্গিকে ফিরে এলেন। ১৯৮৪ সালের প্রথম ছবিটি বক্সঅফিসে সফল না হলেও এবার পুরোপুরি নতুন কাহিনি ও ভিজ্যুয়াল দিয়ে চরিত্রটি পুনর্জীবিত করা হয়েছে। বিশ্বের বহু দর্শক অপেক্ষা করছিলেন—এবার একই দিন, আন্তর্জাতিক মুক্তির সঙ্গে তাল মেলিয়ে ২৬ জুন বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ‘আই, টনিয়া’ ও ‘ক্রুয়েলা’ খ্যাত ক্রেইগ গিলেস্পি। নতুন ছবিতে সুপারগার্ল অর্থাৎ কারা জোর-এলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিলি অ্যালকক, যিনি ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং ২০২৫ সালের ‘সুপারম্যান’ ছবিতে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতেই দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন। মিলির সঙ্গে ছবিতে গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন মোমোয়া, ম্যাথিয়াস শোনার্টস ও ডেভিড কোরেনসওয়েটের মতো তারকারা।

এবারের গল্পে সুপারগার্লকে স্বভাবতই আভিজাত্যপূর্ণ বা শান্ত বলা যাবে না—তিনি রাজকীয়ভাবে বেড়ে ওঠা সুপারম্যানের মতো সুখী নন। নিজের ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহ ক্রিপ্টনে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট তাকে কঠোর, লড়াকু ও বাস্তবমুখী একজন হিরোতে পরিণত করেছে। নিজের বিশ্বস্ত কুকুর ক্রিপ্টোকে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার পরিচয় হয় রুথি নামে এক অনাথ কিশোরীর সঙ্গে। দুজন মিলে এক দুর্ধর্ষ দস্যু নেতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য বিপজ্জনক আন্তঃগ্যালাক্টিক অভিযানে নেমে পড়ে।

চলচ্চিত্রের আরেকটি বড় আকর্ষণ হল জেসন মোমোয়ার লোবো চরিত্রের লাইভ-অ্যাকশন অভিষেক। ট্রেলার প্রকাশের পর ছবিটির পরিণত, অন্ধকারমুখী ও বাস্তবসম্মত আবহ দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও উন্মাদনার জন্ম দিয়েছে। অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক ভিজ্যুয়াল স্টাইল ও একশন সিকোয়েন্সগুলোকে হলিউডের ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন, যা দর্শকদের উৎসাহ আরও বাড়িয়েছে।

হলিউড বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ডিসি সিনেমাটিক ইউনিভার্স গড়ে তোলায় এবং সুপারগার্লকে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চার দশক পর বড় পর্দায় নারীবাহিনী সুপারহিরোর ইতিবাচক প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক বক্সঅফিসের পাশাপাশি বাংলাদেশের দর্শকমূলক মধ্যেও নতুন ইন্দ্রিয়জাগান সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়—নতুন এই রূপে সুপারগার্ল কতটা দর্শকের মন জয় করতে পারে।