ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন পে-স্কেল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন এখনকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ধাপের মূল বেতন রয়েছে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। পাশাপাশি, সর্বোচ্চ ধাপে বেতনের পরিমাণ দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া হবে।

প্রায় এক বছর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালনের পর, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এবং সরকারের আয়-বৈষম্য দূরীকার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায়, সংসদে নতুন বেতনের কাঠামো প্রবর্তনের জন্য জুলাই মাসে এই পে-কমিশন গঠন করা হয়। ছয় মাসের নিরলস পরিশ্রম ও বিশ্লেষণের ফলস্বরূপ, কমিশন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত হবে ১:৮। এই পুরো পে-স্কেলে বাস্তবায়ন হলে সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরিচালনা করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। তবে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, চলতি জানুয়ারি মাস থেকেই আংশিকভাবে এই কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে সরকার এ জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। অর্থমন্ত্রী ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন যে, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকার ও কর্মচারী উভয়ের জন্যই সুফল আসবে। সরকার বিশ্বাস করে, নতুন পে-স্কেল চালু হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নতি হবে এবং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।