ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পটুয়াখালীতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য: কিছু অংশ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া চায় না

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, দেশের কিছু অংশই বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হতে চায় না। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, আগামী নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবেন দেশের তরুণ সমাজ। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভটের প্রচার নিয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পটভূমি তুলে ধরেন, বললেন যে, এই সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার বা রিফর্ম চালু করা, বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। তিনি প্রশাসনের সকলকে সতর্ক করে দেন যাতে নির্বাচনে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রুখে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা অপচেষ্টা হতে পারে, তাই প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে হবে। এই সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অতিরিক্ত উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মের গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া উপায় নেই। তরুণদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে। তিনি তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগ বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। সভায় নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা একাত্মে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।