ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

উপদেষ্টা পরিষদের সভা: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অনুমোদন

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আজ গুরুত্বপূর্ন বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য নতুন আইনগত উদ্যোগের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকে, প্রথমেই ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা আরো সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে ওষুধ কার্যকর করতে অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। তরুণদের শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’ এর খসড়াও অনুমোদিত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি বিরোধী কনভেনশনের’ ৭০(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের পূর্বের ঘোষণা প্রত্যাহার প্রস্তাব। এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য এক শক্তিশালী দিক। এছাড়া গায়ানায় দেশের নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত এবং নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক শিশু আদালত-১৯৮০’ কনভেনশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নে মনোযোগ দিয়ে, উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২০২৮ সময়কালের জন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য পৃথক দুটি অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এ ছাড়া, প্রতিবছর ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে পালনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও নারীদের সুরক্ষা বিষয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকের শেষে জানানো হয় যে, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় অধ্যাদেশ ও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হবে।