ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ওমর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৬০০০ মানুষের চোখে আলোর প্রতিশ্রুতি

ওমর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দৃষ্টি ফিরে পেয়ে অনেকই জীবনে নতুন আশা জাগাচ্ছেন। বর্ণনার জন্য, হালুয়াঘাটের মানুষজনের মধ্যে চোখের ছানি নিরাময়ের এই উদ্যোগে ব্যাপৃত হয়েছে এক বিশাল জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন বয়সী দরিদ্র নারীরা ও পুরুষরা এই বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। এর ফলে তারা এখন অন্ধত্বের অন্ধকার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন এবং নতুন করে জীবনকে দেখার স্বপ্ন দেখছেন।

খালেদা বেগম নামে এক নারী এই উদ্যোগের আরেকটি প্রাণোচ্ছল উদাহরণ। স্বামী মৃত্যুর পর তার জীবনে অনেক দুঃখ এসেছে। ঢাকায় ভিক্ষা করে জীবন চালানো, পোশাককর্মী হিসেবে কাজ করা—সবই ছিল তার অভিজ্ঞতার অংশ। হঠাৎ করে চোখে সমস্যা দেখা দিলে সে হারাতে বসেছিল তার দৃষ্টিশক্তি। চক্ষু চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘ দুই বছর চোখের আলো হারানোর শঙ্কায় ছিলেন সে। ২০২১ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে, হালুয়াঘাটের একটি চক্ষুশিবিরের মাধ্যমে তার চোখের ছানি অপারেশন হয়। বিনামূল্যে এই চিকিৎসায় তার চোখে আলোর ফিরে আসায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এক সময়ের অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন নতুন জীবন পাচ্ছেন।

এই সকল সফলতাগুলোর পেছনে মূল চালক হিসেবে থাকছেন সালমান ওমর রুবেল, যিনি ২০১০ সালে অসহায় মানুষের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওমর ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার উদ্যোগে প্রতিবছরই হালুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। তিনি নিজেই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার মানুষের চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে অন্ধত্বের জন্য কাতর ছিলেন।

অতীতে অপ্রতুল সমর্থনের মধ্যে দিয়ে শুরু হলেও এখন বড় আকারে এই ক্যাম্পগুলো পরিচালিত হয়। চিকিৎসকদের বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চোখের অপারেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে এই উদ্যোগ দুর্দশাগ্রস্ত লোকজনের জীবন বদলে দিচ্ছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায়, স্বেচ্ছাসেবীদের নিরলস কাজের ফলে, এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সালমান ওমর বলেন, শুরুতে এই কার্যক্রম নিয়ে মানুষের খুব বেশি সাড়া ছিল না। তবে এখন প্রতিটি ক্যাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয়। তাদের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে, কারণ এর মাধ্যমে অনেক পরিবারের জীবন আলোর মুখ দেখেছে। এখনো নিয়মিত এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা, যেন আরো বেশি দরিদ্র মানুষ চোখে আলো ফিরিয়ে জীবনে নতুন রাস্তা খুঁজে পান।