ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দেয়নি বিজিবি

আগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোনো ধরনের মারাত্মক অস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিজিবির ঢাকা সেক্টর। সেখানে কূটনৈতিক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ঢাকা সেক্টর কমান্ডর কর্নেল এস এম আবুল এহসান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করে নির্বাচনকালীন সময়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরে কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, ঢাকা সেক্টরের আওতায় মোট ৯টি জেলা ও ৪টি সিটি করপোরেশনের ৫১টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন ১৩৪টি বিজিবি প্লাটুন। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের জন্য যাতে কোনো ভীতি বা শঙ্কা না থাকে, তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিজিবি কাজ করছে। আরও নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, সকল প্রার্থী ও ভোটারদের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ রচনায় বিজিবি সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের জন্য কেও-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও নির্বাচনী মাঠে তৎপর থাকবে।

নির্বাচনী কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছে। কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সদস্যরা বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর ও আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর সদরদপ্তর থেকে পরিস্থিতির সনদ রাখা হবে। বিজিবি মূলত মোবাইল ও স্ট্যাটিক টহল জোরদার করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাবে, যাতে কোনও অপশক্তি বা অসাধু চক্র কোনো ধরণের নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে।

অত্যাবশ্যক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে তারা সক্ষম। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত কোনও বড় শঙ্কার কথা শোনা যায়নি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি বিজিবি মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশনার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিজিবির ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তারা আরো জানায়, প্রিজাইম ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য বিনিময় চালু থাকবে। বিজিবির এই উদ্যোগের মূল লক্ষই হলো, সংবিধান ও আইনি নিয়ম মেনে জনগণের আস্থা অর্জন করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন সম্পন্ন করা। বিজিবির প্রত্যাশা, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে তারা তাদের পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ স্তর নিশ্চিত করবে, যাতে দেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয়।