ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সময় নষ্ট করতে চান না ট্রাম্প, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন সংকট এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এখনকার পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করাই শ্রেয়। পরে ট্রাম্প নিজেও সংবাদ মাধ্যমে জানান, তিনি কোনো অর্থহীন বা ফলপ্রসূ না হওয়া বৈঠকে বসে সময় অপচয় করতে চান না। গত মঙ্গলবার এক বক্তৃতায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, রাশিয়ার কাছে বর্তমান যুদ্ধবিরতি মান্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় আলোচনা অপ্রত্যাশিতভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ন próximas’ ভবিষ্যতে ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠকের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে, ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে তার একটি শুল্কমুক্ত বৈঠক হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা দু’পক্ষের শীর্ষ আলোচনা সম্ভবত বন্ধ করে দিয়েছে। আগস্টে আলাস্কায় এক বৈঠকে ট্রাম্প ও পুতিন মুখোমুখি হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল আসেনি। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই বৈঠকের বাতিল একটি কৌশল, যাতে আবার অনর্থক বৈঠকের আশঙ্কা থেকে বিরত থাকা যায়। একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক রায়টার্সকে বলেন, রাশিয়া কিন্তু বেশিদিন চায়নি, আর যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে — বুদাপেস্টে ট্রাম্প কোনো চুক্তি করবেন না। এ প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে আলোচনা থাকলেও, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে গঠনমূলক ফোনালাপ হয়েছে এবং আলাদা বৈঠকের প্রয়োজন নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কীয়েভ ও ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়ান, যেখানে বর্তমান সমররেখায় সংঘাত স্থির রাখার আহ্বান জানানো হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘যেভাবে আছে, সেভাবেই সীমা টেনে দাও। আমি বলছি, থামো, ফিরে যান, লড়াই বন্ধ করো এবং মানুষের জীবন বাঁচাও।’ কিন্তু রাশিয়া এই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার হলো রাশিয়ার একান্ত শর্ত। একই দিন সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি চায়; অর্থাৎ, বর্তমানে যুদ্ধ স্থির রাখাই পরবর্তী ধাপে। তিনি ইঙ্গিত দেন, মূল সমস্যা এই দুই অঞ্চলে যুুদ্ধের কারণগুলো সমাধান করা হয়নি, যেমন দনবাস অঞ্চলে রুশ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও ইউক্রেনীয় সেনাদের নিরস্ত্রীকরণ। এসব শর্ত কিয়েভ ও তার মিত্রদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে কোনো আলোচনা তখনই শুরু সম্ভব, যখন বর্তমান সমররেখা স্থিতিশীল থাকবে। তারা আরও অভিযোগ করে, রাশিয়া শান্তির প্রবঞ্চক। সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন, অপরদিকে পুতিনের সঙ্গে বুদাপেস্টে একটি সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন। কিছু সূত্র জানায়, সেই বৈঠক ‘বাগবিতণ্ডায়’ পরিণত হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে, জেলেনস্কি ও ইউক্রেনীয়রা কখনোই এসব অঞ্চল ছাড়বে না বলে জোর দিচ্ছেন, কারণ যদি তারা এই অঞ্চলগুলো ছেড়ে দেয়, রাশিয়া আবার হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।