ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে বিজিবির আধুনিক বিওপি উদ্বোধন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করেছেন। তিনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কার্যকর করে তুলছেন। এই দুটি বিওপি হলো সেন্টমার্টিন বিওপি এবং টেকনাফের লেঙ্গুরবিলে নির্মিত নতুন ‘সী-বিচ বিওপি’। এই সফরকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় স্থাপনা উদ্বোধন করেন।

সেন্টমার্টিন বিওপি উদ্বোধনের ফলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন গতিশীলতা ও কার্যকারিতা অর্জন করেছে। এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যা সীমান্তে দায়িত্বরত সদস্যদের নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা এবং মনোবল বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। এই বিওপির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই দ্বীপের নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), পরে দায়িত্ব ইসলাম কোস্ট গার্ডের হাতে চলে যায়। তবে, দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল আবারও বিজিবিকে দ্বীপে মোতায়েন করা হয়। আজকের এই উন্মোচনের মাধ্যমে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বিজিবির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে শুরু হলো।

সেন্টমার্টিন সফর শেষে মহাপরিচালক লেঙ্গুরবিল এলাকায় নির্মিত ‘সী-বিচ বিওপি’ উদ্বোধন করেন। এটি অত্যন্ত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যেখানে যেমন প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তেমনি সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতেও এর গুরুত্ব immense। এই নতুন বিওপিটি সীমান্তের নজরদারিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সেখানে অবস্থানরত সদস্যদের মনোবল ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে। স্থানটি ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে এই অঞ্চলটিতে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ বিজিবির কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যদের সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য সদস্যরা আরও উৎসাহিত হয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এই উন্নত বিওপিগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত, সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।